করোনা থেকে দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ৬ জুস

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটের একটি অংশ হওয়া উচিত ফল ও শাকসবজি। শরীরের যাবতীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি হলো সেরা উপায়।

করোনাভাইরাস শরীরের পাচনতন্ত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে, যা পেটের টিস্যুর ক্ষতি ও প্রদাহ তৈরি করে। তাজা ফল ও শাকসবজি শরীরের হজম ব্যবস্থা সহজেই শোষণ করতে পারে, যা করোনা থেকে সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

এক্ষেত্রে জুস বা শরবত দ্রুত রক্তপ্রবাহে শোষিত হয় বলে, এটি তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক শক্তি পাওয়ার দুর্দান্ত এক উপায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা থেকে সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে বিভিন্ন ধরনের জুস বা শরবত।

দিনে দু-তিনবার শাকসবজি ও ফলের জুস পান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ও প্রদাহ কমাতে পারে। এখানে কোভিড-১৯ রোগীদের দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে এমন ৬টি জুস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

টমেটো-পুদিনার জুস: এই জুস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে সমৃদ্ধ এবং খাবার হজম সহায়তা করে। ঘরে টমেটো-পুদিনার জুস তৈরির জন্য ব্লেন্ডারে এক গ্লাস পানির সঙ্গে ৪টি টমেটো ও ৮-১০টি পুদিনা পাতা দিয়ে ভালোভাবে ব্লেড করুন। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে সামান্য লবণ, লেবু ও গোলমরিচ যোগ করতে পারেন।

গাজর, বিটরুট, আমলকী ও আদার জুস: শরীর থেকে টক্সিন দূর ও লিভার ভালো রাখতে সাহায্য করে আমলকী ও গাজর। আমলকীতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই জুস তৈরির জন্য ব্লেন্ডারে ২টি কাটা গাজর, ১টি বিট এবং সামান্য আদা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এর মধ্যে লেবুর রস মেশালেই তৈরি হয়ে হবে স্বাস্থ্যকর জুস।

মোসাম্বি, আনারস ও সবুজ আপেলের জুস: এটি ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমে সহায়তা করে। এই জুস তৈরির জন্য ২টি মোসাম্বি, ২৫০ গ্রাম আনারস এবং ১টি কাটা সবুজ আপেল ব্লেন্ড করুন। এতে সামান্য বিট লবণ দিতে পারেন।

কিউই, স্ট্রবেরি ও মাল্টার জুস: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণে ভরপুর এই জুস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দুর্দান্ত। এটি শরীরের রক্তচাপ ঠিক রাখতে সহায়তা করে এবং অসুস্থতা থেকে দূরে রাখে। এই জুস তৈরি করতে ১ কাপ স্ট্রবেরি, খোসা ছাড়ানো ২টি কিউই ফল, ১টি মাল্টা, আধাকাপ পানি ও ১ চা-চাপ মধু ব্লেন্ডারে দিন।

হলুদ, আদা, লেবু ও মাল্টার জুস: এই সবগুলো উপাদানেই অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি তথা প্রদাহ বিরোধী গুণ রয়েছে। সবগুলো উপাদান একসঙ্গে ব্লেন্ডারে দিয়ে তৈরি করে নিন জুস।

শসা, পালং শাক, পাথুনি শাক, আদা ও লেবুর জুস: সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই শাকসবজি থাকা উচিত। এটি প্রদাহ হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং হজম ক্ষমতা বাড়ায়। এই জুস তৈরির জন্য ২টি খোসা ছাড়ানো শসা, ১০০ গ্রাম পালং শাক, ৪টি পাথুনি ডাঁটা এবং ১ ইঞ্চি আদা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

 

আরও পড়ুন

চুল পড়া সমস্যার সমাধান হবে তেলেই

মানুষের শরীরের অন্যতম আকর্ষণ চুল। তবে কখনো কখনো চুল মানুষের অন্যতম চিন্তার কারণও হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৫ জনই চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন। এই চুল পড়ার কিছু প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। চুলের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আয়ুষ্কাল থাকে। চুল গজানোর পর সেটির আয়ুষ্কাল প্রায় ১,০০০ দিন হয়ে থাকে। এরপর স্বভাবতই চুলটি ঝরে পড়ে। ঝরার পাশাপাশি নতুন চুলও প্রতিনিয়ত গজাচ্ছে দেখে চুলের পরিমাণে ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে সঠিক যত্নের অভাবেও চুল পড়া বেড়ে যায় এবং এর ফলে মাথায় চুলের পরিমাণ ক্রমাগত কমতে থাকে।

শরীরে পুষ্টিকর খাবারের অভাব, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, পানিতে ক্লোরিনের পরিমাণ বেশি থাকা ইত্যাদি চুল পড়ার কিছু কারণ। আমাদের সবারই চুলে শ্যাম্পু করার প্রবণতা বেশি। শ্যাম্পু চুল পরিষ্কারের জন্যে অত্যন্ত উপযোগী। তবে চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করাই শ্রেয়। চুলের জন্য বেশ কিছু উপকারী উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত হলেও শ্যাম্পু থেকে আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রয়োজনীয় পুষ্টিটা পাচ্ছিনা, যা আমাদের চুলকে মজবুত করবে। যার ফলে চুল পড়ার সমাধানও হচ্ছেনা। অন্যদিকে প্রতিদিন শ্যাম্পু করাটিও চুল ক্ষয়ের একটি অন্যতম কারণ। তাই চুল পড়া সমস্যার সমাধান করতে হলে নিতে হবে চুলের সঠিক যত্ন।

চুলের সঠিক যত্ন নেওয়ার সর্বপ্রথম এবং প্রাচীন পন্থা ছিল তেল। এই তেল দেওয়ার জন্য আগের দিনে নানি-দাদীরা আমাদের কতইনা বকতেন! আজ যুগান্তর পেরিয়ে গেলেও চুল পড়ার সমস্যার সমাধান আমরা সেই তেল থেকেই পাই। অনেকের কাছেই চুলের খাবার হিসেবে পরিচিত তেল। চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি গুনাগুণ পাওয়া যায় তেল থেকে। তবে পাশাপাশি সঠিক তেল নির্বাচন করাটিও খুব জরুরি। ছোটবেলা থেকেই আমরা চুলে নারকেল তেল দিয়ে অভ্যস্ত। চুলে যেমন নারকেলের পুষ্টি প্রয়োজন, ঠিক সমানভাবেই প্রয়োজন আরও কিছু ভেষজ উপাদানের।

নারকেল তেল, কালোজিরা ও মেথির মিশ্রণ: এটি চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। কালোজিরা এবং মেথি কড়া রোদে শুকিয়ে একসঙ্গে গুঁড়া করে নিন। এরপর নারকেল তেলের সঙ্গে গুঁড়া করা মেথি ও কালোজিরা মিশিয়ে মিশ্রণটিকে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর একটি কাঁচের বোতলে রেখে দিন। এটি অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে। এই তেল সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন। কয়েক মাসের মধ্যেই উপকার পাওয়া যাবে।

তবে এতটা করার সময় না পেলে ব্যবহার করতে পারেন প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার অ্যান্টি হেয়ারফল অয়েল। এটি দেশের বাজারে এনেছে ম্যারিকো লিমিটেড বাংলাদেশ। প্যারাসুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ার-এ চুল পড়া কমাতে প্রমাণিত উপাদান নারকেল, মেথি, আমলকি ও অ্যালোভেরার সঠিক মিশ্রণ রয়েছে। এতে আরো আছে বায়ো-অ্যাক্টিভস, যা চুল পড়া কমাতে একদম গোড়া থেকে কাজ করে। এবং চুল পড়া কমায় মাত্র ৪৫ দিনে।

চুল পড়া রোধে শুধু তেল ব্যবহার করলেই হবে না, কিছু ভুল ধারণা সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। যেমন ভেজা চুলে গরম তেল মালিশ আরামদায়ক মনে হলেও তা আসলে করা উচিত না। ভেজা চুল ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে থাকে। তাই ভেজা নয় বরং শুষ্ক চুলে তেল ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই মনে করেন মাথায় বেশি তেল দিলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। এটাও ভুল। মাথায় অল্প তেলই কাজ করে। বরং চুলে বেশি তেল দেওয়া মানে হলো বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার, যা চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। এতে চুল আগের চেয়ে রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে।

তেল দেওয়ার পরে চুল জোড়ে আচঁড়ে তা শক্ত করে বেঁধে রাখলে চুলের গোঁড়া হয়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *