মেথি খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

মেথি ব্যবহার করা হয় রান্নার কাজে। খাবারের সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে মেথির ব্যবহার বেশ পুরোনো। এছাড়াও নানা কাজে লাগে মেথি। এর উপকারিতাও কিন্তু অনেক। আপনি যদি নিয়মিত মেথি খেতে পারেন, তবে দূরে থাকা যাবে শারীরিক অনেক সমস্যা থেকে। এটি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না সহজে। তবে যেকোনো প্রকারে খেলেই হবে না, এটি খাওয়ার আগে জানা থাকা চাই সঠিক নিয়ম। নয়তো উপকারিতা না-ও মিলতে পারে।

মেথি খাওয়ার নিয়ম

এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি নিন। এবার তাতে এক চা চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে উঠে খালি পেটে সেই পানিটুকু পান করুন। আবার সকালে খালি পেটে শুধু মেথিও চিবিয়ে খেতে পারেন। এতেও মিলবে উপকার। চাইলে মেথি ভেজানো পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। পাশাপাশি রুটি, পরোটা, ঝোল তরকারি, সালাদ এবং মাছে ব্যবহার করতে পারেন মেথি। এতেও উপকৃত হবেন। জেনে নিন মেথি খেলে কী উপকার মিলবে-

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

মেথিতে থাকে দ্রবণীয় ফাইবার। এর ফলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমানো সহজ হয়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি খেলে তা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কৃমি দূর করে

অনেকেই কৃমির সমস্যায় ভুগে থাকেন। এটি হতে পারে আরও অনেক অসুখের কারণ। বিশেষ করে শিশুদের এই সমস্যায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে মেথি। নিয়মিত মেথি খেলে কৃমি দূর হয়।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

অতিরিক্ত ওজন ও বাড়তি চর্বি নিয়ে মুশকিলে পড়লে মেথির সাহায্য নিতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত মেথি খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চর্বিও ঝরায়। সুস্থ থাকার জন্য তাই নিয়মিত মেথি খান।

ত্বকের দাগ দূর করে

ত্বকে নানা ধরনের দাগ নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকে। এ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে মেথি। আপনি যদি নিয়মিত মেথি খান তবে ত্বকের নানা দাগছোপ দূর হবে সহজেই। সেইসঙ্গে ত্বক হবে ভেতর থেকে উজ্জ্বল।

পেটের সমস্যা দূর করে

পেটের নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকেই। এর থেকে মুক্তির জন্য মেনে চলেন নানা উপায়। পেটের সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে খাবারের দিকে। নিয়মিত মেথি খেলে তা গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ আরও অনেক সমস্যা থেকে দূরে রাখবে।

আরও পড়ুন

পেঁপে পাতার ঔষধি গুণ
পেঁপে গাছ খুব সহজেই হয়, ফলনও হয় অনেক। পেঁপে এমন একটি গাছ যার প্রায় প্রতিটি অংশই ব্যবহার করা যায়। এর বীজেও রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই বিশ্বে এই ফল পছন্দের তালিকায় রয়েছে সবার উপরে। তবে আমরা অনেকেই পেঁপে পাতা সম্পর্কে জানি না। এরও উপকারিতা প্রচুর। আজ এই প্রতিবেদনে আমরা পেঁপে পাতার উপকারিতা ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানবো।

পেঁপে পাতা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমন স্কিনের জন্য উপকারী। পেঁপে পাতায় রয়েছে পাপাইন, যা হজমে সাহায্য করে। পেট ফুলে যাওয়া এবং অন্যান্য হজম সংক্রান্ত ব্যাধি প্রতিরোধ করে। হজমের পাশাপাশি কারপেইনের মতো শক্তিশালী যৌগ খুশকি ও চুল পড়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভিটামিন পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন ই, সি এবং বিটা ক্যারোটিন। আর পেঁপে পাতায় এ, সি, ই, কে ও বি এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রন প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাহলে জেনে নিন পেঁপে পাতার জুসের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১) ডেঙ্গু মোকাবিলা করে পেঁপে পাতা

 

ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীদের পেঁপে পাতার রস খেতে বলা হয়। ডেঙ্গু হলে প্লাটিলেট কাউন্ট কমতে শুরু করে, পেঁপে পাতার রস প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে।

২) অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া উপাদান

পেঁপে পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া উপাদান। এতে থাকা এসিটোজেনিন যৌগ ডেঙ্গুর পাশাপাশি ম্যালেরিয়া সারিয়ে তুলতেও সাহায্য করে।

৩) লিভারের জন্য ভালো

লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে পেঁপে পাতার রস। তাই এই রস প্রতিদিন খেলে লিভারের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জন্ডিস এবং লিভার সিরোসিস হওয়ার ভয় থাকে না।

৪) হজমে সাহায্য

পেঁপে পাতায় থাকা এনজাইম প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেড এবং মিনারেলকে ভেঙে হজমে সাহায্য করে। এর উচ্চ অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান পেট এবং মলাশয়ের প্রদাহকে হ্রাস করে। পেঁপে পাতার রস খেলে আলসার নিরাময় হয়।

৫) রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে

ডায়াবেটিসে দারুন কাজ করে পেঁপে পাতার রস। এটি ইনসুলিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান কিডনি ড্যামেজ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো ডায়াবেটিসের ফলে যে জটিলতা দেখা দেয় তা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। কিডনির সমস্যা নিমেষেই দূর করবে মেথির তেল! এবার জেনে নিন এর অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা-

৬) মাসিকের ব্যথা কম করে

পিরিয়ডের সময় পেটের যন্ত্রণা প্রায় সবার হয়। পেঁপে পাতার রস খেলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই রস হরমোন এবং মাসিক চক্র ঠিক রাখে।

৭) ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে

পেঁপে পাতায় থাকা এসিটোজেনিন যৌগ অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান। এথনোফার্মাকোলজির জার্নালের সমীক্ষা অনুসারে, পেঁপে পাতায় থাকা এনজাইমগুলো লিভার ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। পেঁপে পাতার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ এবং কেমোথেরাপির

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *