আম খেলেও ওজন কমবে জানুন বিস্তারিত

রসালো ও মিষ্টি ফল আম। এর স্বাদে মুগ্ধ হয় ছোট-বড় সবাই। তবে বেশি খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই এড়িয়ে যান ফলের রাজা আমকে। তাই তো ডায়াবেটিস রোগীর খাবারের তালিকা থেকেও আম বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে জানলে অবাক হবেন, আম খেয়েও না-কি ওজন কমানো যায়- এমনই বলছে গবেষণা।

২০০৮ সালের এপ্রিলে নিউট্রশন রিসার্চ একটি গবেষণা প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত ওজনে ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তিরা বেশি পরিমাণে ফল খেয়েছেন; তাদের ওজন অন্যদের তুলনায় বেশি কমেছে। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। তাহলে ৬ মাসে অতিরিক্ত আপনার ০.৩কেজি ওজন কমবে।

এজন্য অনেক চিকিৎসকই এই মৌসুমে আম খাওয়ার পরামর্শ দেন। আমে আছে কার্ব, প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, বি-৬ এবং ফোলেট। ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও অ্য়ান্টি-অক্সিডেন্ট।

আম খেলে কীভাবে ওজন কমবে? আম খেলে ওজন বাড়ে, এই কথা পুরোপুরি ভুল নয়। কারণ অসময়ে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ বেশিরভাগ মানুষই খাওয়ার পর খান কিংবা ডিনারে বা লাঞ্চেও অনেক সময় আম খান।

পরিমাণ অনুযায়ী, একটা মাঝারি মাপের আমের ওজন ১৫০ গ্রাম হতে পারে। তাই বেশি ক্যালোরি আপনার খাবারে যোগ হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে রাতে আম খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবাবনা বেশি থাকে। তবে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকের পরিবর্তে আপনি যদি আম খান, তবে অবশ্যই আপনার ওজন কমতে পারে।

যেমন সকাল বা বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে আপেল বা কলার পরিবর্তে আপনি একটি আম খেতেই পারেন। এ ছাড়াও ব্যায়াম শুরু করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে একটি আম খান। এটি আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে। কারণ এতে ভিটামিন সি, বি-৬ ও কার্ব আছে। অন্যান্য ফলের মতোই আমও আপনার পেট অনেক্ষণ ভর্তি রাখবে।

আরও পড়ুন

সাড়া জাগাচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় ফলকে রোগবালাই ও রাসায়নিক মুক্ত রেখে স্বাদ ও ফলের আসল রং অক্ষুন্ন রাখতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি আম চাষে বিপ্লব ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে এই উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহারের সুফল পাওয়া গেছে। গত কয়েক বছর ধরে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ হচ্ছে এই উপজেলায়। কীটনাশকের বিরুদ্ধে মানবদেহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এই প্রযুক্তিতে ফল চাষ দিন দিন চাষির মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করছে। লালপুরে এক সময় কীটনাশক ছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনের চিন্তা করতে পারতেন না মৌসুমী ফল চাষীরা।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথাগত পরিবর্তন এসেছে ফল উৎপাদনে। উৎপাদিত ফল রফতানির চিন্তা মাথায় রেখে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে চিরাচরিত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে এখানকার চাষিরা বেছে নিচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। সকালে উপজেলা বিজয়পুর এলাকার কমরুজ্জামান লাভলুর আমবাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে বাবুই পাখির বাসার মতো প্রতিটা আমের গাছে হলুদ ও সাদা রঙ্গের ব্যাগ ঝুলছে কাছে গিয়ে দেখা যায় ব্যাগের মধ্যে আম রয়েছে।

কথা হয় বাগান মালিক আম চাষি কামরুজ্জামান লাভলু সঙ্গে তিনি বলেন, বিষমুক্ত আম উৎপাদনের একমাত্র উপায় ফ্রুট ব্যাগিং। গত বছর ১০ বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে ফ্রুট ব্যাগিং করে লাভবান হওয়ায় এবার প্রায় ১৬ হাজার বিভিন্ন জাতের আমে (বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আম ঢেকে রাখা) ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন তিনি। বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা গাছে থাকা অবস্থায় ফলকে আবৃত করে রাখাটাই ফ্রুট ব্যাগিং। ফলের একটা নির্দিষ্ট আকারের সময় এই ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।

ফল সংগ্রহ পর্যন্ত গাছেই লাগানো থাকে। এই ব্যাগটি বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং ও আকারের হয়ে থাকে। তার মতে, কীটনাশক, পোকামাকড় ও বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে রক্ষা করতে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর। এতে আম থাকে বিষমুক্ত। তবে এই পদ্ধতি একটু ব্যয়বহুল হলেও আম বিক্রির লাভ থেকে তা পুষিয়ে নেওয়া যায়। কারণ এই পদ্ধতির আমের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা একটু বেশি দামে হলেও বিষমুক্ত আম কিনতে চান। অনেক আম চাষিই এই পদ্ধতির দিকে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। লালপুর ুউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর এই উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে।

বিষমুক্ত ফল উৎপাদনের এটি একটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। ফ্রুট ব্যাগিংকৃত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *