কাচা ছোলা খাওয়ার ৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

আরও পড়ুন

উজ্জ্বলতা ফেরাবে চিনি

 

ত্বক ফর্সা করতে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন চিনি। স্ক্রাবার হিসেবে চিনির বিকল্প নেই। তাই রূপচর্চায় চিনির ধারেকাছে কেউ ঘেঁষতে পারে না। চিনির স্ক্রাব বানাতে সময় যেমন কম লাগে, তেমনই খ্রিস্টাল ক্লিয়ার ত্বকও পাওয়া যায়। শীতে ঠোঁট ফাঁটছে কিংবা গোড়ালি? একটু চিনি গুঁড়া করে নিয়ে ওর মধ্যে লেবুর রস আর অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগান। কয়েকদিনেই সব ভ্যানিশ।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে

লেবুর রস, চিনি, মধু, কফির গুঁড়া, চালের গুড়া, বেসন, কাঁচা দুধ আর হলুদ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাতে, মুখে, গায়ে ভালো করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরপর কয়েকদিন করুন। সপ্তাহে তিনদিন করতেই পারেন। একমাসেই পাল্টে যাবে পুরনো চেহারা। ত্বকেও আসবে নতুন ছোঁয়া।

বডি স্ক্রাবার

পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব বানান। এরপর তা ভালো করে লাগিয়ে নিন পুরো শরীরে। কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। চিনিতে আছে আলফা হাইড্রক্সাইড অ্যাসিড। যা চামড়া কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

গ্রিন টি ও সুগার স্ক্রাব

গ্রিন টিয়ের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। আর তাই চিনি গুড়ো করে গ্রিন টি পাতার সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার ওর মধ্যে অলিভ অয়েল আর মধু মেশান। এবার এই মিশ্রণ ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এতে মুখের মরা কোষ উঠে আসবে।

ওটমিল সুগার স্ক্রাব

যাদের ত্বক তৈলাক্ত প্রকৃতির তাদের জন্য এই স্ক্রাব খুবই ভালো। মুখের অতিরিক্ত অয়েলকে শুষে নিতে পারে এই স্ক্রাব। ওটস, চিনি আর মধু ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে এই স্ক্রাব বানিয়ে নিন। সেই সঙ্গে দু ফোঁটা অলিভ অয়েলও মেশাতে পারেন। এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে রাখুন যতক্ষণ না পুরো শুকনা হয়। শুকনো হলেই ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের যত্নে

নারকেল তেল, চিনি আর কফি পাউডার মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *