ভালোবাসার মানুষের প্রতারণা বুঝার উপায়

ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রেমিক বা প্রেমিকা সবসময় ভালো দিকটাই দেখিয়ে থাকেন। সম্পর্কে জড়ানোর পর সর্বদা নিজের খারাপ দিকটা লুকিয়ে রাখেন। সাধারণত বেশিরভাগ সময়ই তো ফোনে বা ম্যাসেঞ্জারে কথা হয়। আর দেখা হওয়ার সময় তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এই সময়ে কি করে বিচার করবেন জীবন সঙ্গী করতে চাওয়া মানুষটিকে।

বিচার করার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কেননা, মানুষটি আপনার সঙ্গে সত্য বলছে না মিথ্যা বলছে এটা জানা কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। সঙ্গী হিসেবে অবশ্যই একজন ভালো মানুষকে পছন্দ করতে হয়। অনেকে একাধিক সম্পর্ক চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে আপনি যখন গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে বিষয়টি জানার পর খুব আঘাত লাগে হৃদয়ে। অনেকে তা সহ্য করতে না পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও ঘটান। তাই জীবন সঙ্গীকে জানতে-বুঝতে সে সত্য বলছে কিনা জেনে নেওয়ার

উপায়গুলো জেনে নেওয়া যাক-
কথা রক্ষা না করা : আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে আপনাকে জানানো হল সে আপনার সঙ্গে অংশ নিতে পারবে না। বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। কখনো কখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজও দেখান। একটা সময় জানতে পারলেন ঐ সময়টায় তার কোনো কাজই ছিল না। এমনটা দেখলে তার সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কেন মিথ্যা বলল সেটাও জানার প্রয়োজন নেই।

অন্য বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা : ভালোবাসার মানুষটি অন্য কারও সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে বা বিপরীত লিঙ্গের কারও সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবে এটা কেউই মেনে নিতে পারবে না। মুখে হাজারবার অসুবিধা নেই বললেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই রাগ করেন সকলে। এক্ষেত্রে অনেকে ভালোবাসার মানুষ রাগ করবেন ভেবে মিথ্যা বলে থাকেন। পরবর্তীতে এ নিয়েই সমস্যার শুরু হয়। এতে বিশ্বাস ভেঙে যায়। একাধিকবার এমনটা করলে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বা ম্যাসেজ : অনেকেই আছেন ভালোবাসার মানুষটির পাশে থেকেই অন্য কারও সঙ্গে চ্যাটিং বা ফোনে কথা বলেন। আবার তাদের বলেন যে বিষয়টি যেন কাউকে না বলেন। এটা খুবই খারাপ। এতে করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আপনি যাকে ভালোবাসেন আর তার অপছন্দের কাজ করেন সেটা কি উচিত হবে আপনার। এতে অন্যজন আঘাত পান। যা কথা বলার, ম্যাসেজ করার ভালোবাসার মানুষটির সামনেই করুন।

বন্ধু বা বান্ধবীর ভালোবাসার মানুষ বেশি আকর্ষণীয় : এমন অনেকেই আছেন যারা নিজের ভালোবাসার মানুষটির থেকে অন্যের ভালোবাসার মানুষটিকে বেশি পছন্দ করেন। বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কখনো ভুল করেও মুখ ফুটে বলা যাবে না। কেননা, বিষয়টি নিজের ভালোবাসার মানুষ জানতে পারলে বা বুঝতে পারলে খুবই কষ্ট পাবেন তিনি। তাই এখনই এই অভ্যাস বন্ধ করুন। আপনার কোনো বন্ধু-বান্ধবীর মধ্যে এমন স্বভাব থাকলে তাকে সতর্ক করুন এবং সঠিক পথে আসার পরামর্শ দিন। এমন মানুষের জন্য বৈবাহিক জীবনে ভয়ানক অশান্তি সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

কাচা ছোলা খাওয়ার ৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *