হৃদরোগের ১২টি পূর্বাভাস

হৃদরোগ সচরাচর হুট করে হয় না। দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলই এর জন্য দায়ী। আর কিছু উপসর্গ যদি আগেই ধরা পড়ে, তবে সতর্ক হতে সময় পাবেন যথেষ্ট। হৃদরোগের তেমনি কিছু আগাম পূর্বাভাস জানা যাক এবার।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

ঘুমের মাঝে হুটহাট দম আটকে আসে অনেকের। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকার অভ্যাসের সঙ্গে এমন ঘটনার সম্পর্ক আছে। এতে কিছু সময়ের জন্য মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায় না। একেই বলে স্লিপ অ্যাপনিয়া। এতে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের সমস্যা দেখা দেয় ও ধীরে ধীরে রোগীর হৃৎপিণ্ড অকার্যকর হতে থাকে। সময়মতো ধরা পড়লে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিরাময়যোগ্য।

হলুদ-কমলা র‌্যাশ

অতিমাত্রায় ট্রাইগ্লিসারিড (টিজি) বেড়ে গেলে আঙুলের গোড়া, পায়ের বুড়ো আঙুল বা আশপাশে বেশ ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। হলুদ-কমলা রঙের ফুসকুড়ি বেড়ে গেলেই বুঝতে হবে আপনি হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন।

দুর্বল মুঠো

বেশি বয়স না হতেই অনেকের হাতের গ্রিপ তথা মুষ্টিবদ্ধ করার শক্তি কমে আসে। এর সঙ্গে আপনার হৃৎপিণ্ডের ক্ষমতার সরাসরি যোগাযোগ আছে। কোনো কিছু জোরসে আঁকড়ে ধরতে যদি টানা অনেকদিন সমস্যা বোধ করেন, তবে হার্টের পরীক্ষা করানোটা জরুরি।

নখের নিচে

কোনো আঘাত পাওয়া ছাড়াই যদি নখের নিচে কালো ছোট ছোট গোলাকার দাগ দেখতে পান তবে সতর্ক হতে হবে। এটাকে বলে এন্ডোকারডাইটিস। হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের কারণেই নখে রক্ত জমাট বেঁধে এমনটা হয়। আবার ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলেও এমনটা হতে পারে। দুটো একসঙ্গে থাকলে ওই ব্যক্তির হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

 

ঘন ঘন চক্কর

একবার দু’বার হতেই পারে। কিন্তু প্রায়ই যদি মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে কিংবা চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন তবে ধরে নিন আপনার হৃৎপিণ্ডটা ঠিকঠাক রক্ত পাম্প করতে পারছে না। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে মাংসপেশীতেও রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। তখন দেখা যাবে হুট করে শরীরের কিছু অঙ্গে ভারসাম্যও রাখতে পারছেন না।

যৌন সমস্যা

হৃদরোগের সঙ্গে এ সমস্যাও জড়িয়ে আছে ভালো করে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের কারণে ধমনী সরু হয়ে এলেও দেখা দেয় যৌন দুর্বলতা কিংবা শারীরিক সম্পর্কে অনীহা।

ত্বকের রঙ

হাতের আঙুল ও বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল যদি নীলচে হয়ে আসে তবে বুঝতে হবে সেখানে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাচ্ছে না। রক্তনালীর ব্লকের কারণেই এমনটা হয়। আবার ত্বকের মধ্যে এক ধরনের ফ্যাকাসে গোলাপি আভা দেখা দেওয়ার মানেও হলো কোলেস্টেরলের প্লাকগুলো ভেঙে গিয়ে ছোট ছোট রক্তনালীগুলোকে আটকে দিচ্ছে।

মাড়ি দিয়ে রক্ত

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে গাম ব্লিডিং। গবেষকরা এখনও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার সঙ্গে হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পাননি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতার সঙ্গে গাম ব্লিডিংও থাকতে দেখা গেছে। এর সঙ্গে আবার স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেশি দেখা গেছে।

ত্বকে কালশিটে ছোপ

বিশেষ করে গলার কাছে, বগলে কিংবা শরীরের কিছু ভাঁজে গাঢ় বাদামি ছোপ দাগ থাকে অনেকের। ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ না করলেও এমনটা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হতে পারে হৃৎযন্ত্রও। শরীরে এমন ছোপ বেশি দেখা গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো সেরে ফেলুন।

 

শ্বাস নিতে হাঁসফাঁস

কোনো একটা মাঝারি গোছের কাজ করার পরই শ্বাস নেওয়ার জন্য বুকটা ধড়ফড় শুরু করে তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পা-ফোলা

বেশি সময় বসে থাকা বা গর্ভাবস্থায় এমনটা হয়। আর এটাও মূলত হৃৎপিণ্ডের শক্তি কমে যাওয়ার ফল। যার কারণে পায়ের নিচে তরল জমতে থাকে। এর মানে হলো পায়ের তলানিতে কোনো না কোনো ব্লক তৈরি হয়েছে, যার কারণে নিচ থেকে রক্ত নিচ থেকে আবার উপরে উঠতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

ঘন ঘন অবসাদ

ঠিকমতো ঘুম না হলে এমনটা হতেই পারে। তবে এর বাইরেও যদি ক্লান্তিতে সারা শরীর ছেয়ে আসে তবে সতর্ক হয়ে যান হৃৎপিণ্ডের ব্যাপারে। দেখুন, এর পাশাপাশি কাশির সমস্যাটাও আছে কিনা। কারণ অবসাদের জন্য আবার আমাদের রক্তাল্পতা ও বিষণ্নতাও দায়ী।

আরও পড়ুন

জলপাই পাতার রসে আছে অসাধারণ ৪টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে।

জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই ৪টি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে।

জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছেঃ

১. সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করেঃ

যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে।

২. ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করেঃ

গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে।

৩. অ্যান্টি এজিং উপাদান আছেঃ

যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

৪. ক্ষত ভালো করেঃ

২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *